Sunday, December 4, 2022
spot_img
spot_img
Homeকলমেগল্প: "বিয়ে" লেখক, এন কে মন্ডল,হরিহরপড়া, মুর্শিদাবাদ।

গল্প: “বিয়ে” লেখক, এন কে মন্ডল,হরিহরপড়া, মুর্শিদাবাদ।

গল্প : বিয়ে

লেখক : NK Mondal Horihorpara Murshidabad

সাবিনা বয়স অল্প| প্রায় আঠেরো হবে| উচ্চমাধ্যামিক পরিক্ষার্থী | তাঁর ইচ্ছা আছে কোন সরকারি উচ্চপদস্থ চাকরি করবে | কিন্তু সবার সব স্বপ্ন সত্যি হয় না | দেখতে অনেক সুন্দর | পরি তো নয়, রাজপরি | পিয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ছে | নয়না অ রেক্সনার প্রিয় বান্ধবী | ও ওদের পরিবারের টাকা আছে, কিন্তু সাবিনার বাবার তো নেই | তাতে ঘরে মেয়ে বড় হচ্ছে | চিন্তা আছে | কোনক্রমে সংসার চলে | বাবার সম্পত্তি নেই | পৈত্রিক সম্পত্তি বলতে সাবিনার দাদুর দিয়ে যাওয়া এক বিঘা জমি | সে নিয়েই চলছে ওদের সংসারের খরচ | বাবা জোতদারদের জমিতে কাজ করে | সাবিনা জীবনের যন্ত্রণা বোঝে | ভালো ছাত্রী | আর সেই রবই একদিন ওর কাল হয়ে দাঁড়াল | পাশের গ্রামের আব্দুল মাতিন সাহেবের ছেলে আনিসের জন্য বিয়ের দেখা চলছে | মাতিন সাহেব ভালো মেয়ে চাই | কিন্তু কলেজ পাশ নেবে না | ওরা নাকি নোংরা প্রকৃতির | দাবিদাবা নেই | মেয়ের বাবা যা পারবে দেবে | ঘটক সাহেব পাত্রের বাবাকে নিয়ে এসেছে | এক দেখাতেই বিয়ে পাকা | ত্রিশ হাজার টাকা নগদ | আর একটা আংটি | মাতিন সাহেব ছেলের বিয়্রের পণ নেবেন না | কিন্তু ছেলে নেবে তাই নিতে হচ্ছে | সেকথা আবার মাতিন সাহেব একবারও বলেননি | যা বলেছেন ঘটক মশাই বলেছেন | সাবিনার বাবা সাইদুল ইসলাম হেসেই বললেন, এখনকার যুগে অল্প বিস্তর লাগে | কিন্তু চোখের কোণে জলবিন্দু ভেসে আসছে | ত্রিশ হাজার টাকা একটি আধা ভরি সোনার আংটিতেই বিয়ে পাকা হয়ে গেল | একমাসের মধ্য বিয়ে | তেমনই কথা পাকা হয়ে গেল |সাবিনার এই বিয়েতে একদম মত নেই | কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো | সাবিনার বাবার মাথায় প্রচুর চিন্তা চেপে গেল | ঘরে কোনো অর্থ নেই, অথচ এতগুলো টাকা দেব বলে অঙ্গিকার করলো | কোথায় টাকা পাব | বড় চিন্তা | বড়বাড়িতে বিয়ে বয়ে বলে কথা | বিয়ে দিতে পারলে মেয়ে আমার সুখেই থাকবেই | দুইদিন পরে সাইদুল ঠিক করলো, যে একবিঘা জমিটা থেকে পাঁচ কাঠা জমি বিক্রয় করে দেবে | তাছাড়া উপায় কি | এতগুলি টাকা আমার মত কাউকে দেবে না | আমি যে অসহায় | তাই কুতুব উদ্দিনের কাছে চল্লিশ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিল | তাতে বিয়েটা সারা হয়ে যাবে | সাবিনা স্কুল যাওয়া বন্দ করে দিয়েছে | তাঁকে বাড়ি থেকে চাপ দেওয়া হয়েছে | সে মহিলা মানুষ, কি করবে | কোনো বন্ধু নেই যে তাঁকে বাঁচাবে |

( 2) (বিয়ের দিন)

বিয়েরদিন সঁন্ধ্যা বেলায় বিয়ের অনুষ্টান | কণে কক্ষে সাঁজছে | বাড়িতে তেমন একটা আড়ম্বর নেই | গরীব নম: নম: করেই সারছে | হঠাৎ করেই বিদুৎ চলে গেল | লোড শেটিং হবে হয়ত| গ্রামের ব্যাপার, জায়গায় জায়গায় মোমবাতি জ্বেলে দিল | অনুরুপ কণের ঘরে জ্বেলে দিল পাড়ার মাসিমা | মোমবাতি জ্বেলে দিতেই, সর্বনাশ | গলা ফাঁটিয়ে হাঁক | সাবিনা নেই রে | ব্যাস হইচই পড়ে গেল, সারাবাড়ি |কনে ভেগেছে | আধা ঘণ্টার মধ্যে খবর রাষ্ট্র হয়ে গেল | সাবিনা প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়েছে | ওদিকে সাবিনার চোখে কাপড় বেঁধে বাইকে নিয়ে পালাচ্ছে | অবশ্য ঔষধ দিয়ে অজ্ঞান করা হয়েছিল |
3

আস্তে আস্তে চোখ খুলছে সাবিনা | বাড়ির ছাঁদটা অন্যরকম | বড় বাড়ি বলে মনে হচ্ছে | হ্যাঁ এবার ঠিক দেখতে পাচ্ছে | কোনো ভুল নেই | কোনো রকম চেল্লা চেল্লি না করেই বিছানা ছেড়ে উঠে বসলো | একে একে ঘরে প্রবেশ করলো আবির,রবি ও নয়না | সাবিনার বুঝে উঠতে বাকি রইল না, কারণ ওরাই তুলে নিয়ে এসেছে | কি রে, আমায় এখানে নিয়ে এসেছিস কেন | আবির বলে উঠল, ইচ্ছা করেছে তাই এনেছি | এই বলে চলে গেল হোটেলের নীচ তলায় | নয়না সাবিনার পাশে বসে বলল, তোর কি এই বিয়েতে মন ছিল বল | না, কিন্তু আমায় নিয়ে এসে বড় ভুল করেছিস | তোকে আবির খুব ভালোবাসে রে | সত্যি | আমি জানি না তো,
সত্যি আমাকে ভালোবাসে আবির, বলিয়া কাঁদিতে লাগিল | সে আমাকে কোনোদিন বলেনি | কেন? | আবির কোথায় আছে | ওহ আছে হোটেলের ছাঁদে |

4 স্কুলের পূর্ব কাহিনি

সেদিন ছিল স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান | সাবিনা সুন্দর ভাবে সেঁজে এসেছে | কারণ অনুষ্ঠানে একটি নাটকে অভিনয় করবে | এত সৌন্দর্য সাবিনার, বর্ননা করা মুস্কিল | অনুষ্ঠানেএ শেষে সাবিনাকে প্রপোজ করবে বলে অপেক্ষায় আছে | এমন সময় একটি কারণে প্রোপজ করা হয় নি | সাবিনা কোনোদিন কাউকে ভালবাসে নি, সে আবিরকে ভালবাসে মনে মনে, কিন্তু কোনোদিন বলতে পারে নি | সাবিনা অনুষ্ঠানের কাজ সেরে বাইরে আসতেই দেখে নয়না দাঁড়িয়ে আছে | কি রে কাজ শেষ | হ্যাঁ | চল | নয়না ও সাবিনা বাড়ি চলে আসলো | পরেদিন ছিল স্কুলের ফিজ জমা দেওয়ার শেষদিন, সারাদিন সাবিনার বাবা কোনো রোজগার করতে পারেনি | সাবিনা আজ নির্ঘাত স্কুল থেকে বাদ হয়ে যাবে | এবছর পরিক্ষায় বসতে পাবে না | কিন্তু সতেরো তারিখে আ্যনাউন্সমেণ্টে সাবিনার নাম উঠে গেছে | কিন্তু কিভাবে উঠেছে সেটাও জানে না|

কয়েকদিন পরে এক রেস্টুরেন্টে |
স্কুলের কয়েকজন বন্ধু বান্ধবী মিলে রেস্টুরেন্টে নিয়ে গেলো | জোর করেই নিয়ে গেলো | তাঁকে আজ খাওয়াতে হবে | কোনোমতেই ছাড়ছে না সাবিনাকে | কিছু টাকা আছে অবশ্য আছে, গতমাসে স্কলারশিপ পেয়েছে | সে টাকাটা জ্যামেতি বক্সে রাখা আছে | সাবিনা লজ্জার মুখে পড়ে গেলো | কি আর করবে |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments